করোনায় এই ঈদেও বন্ধ সিলেটের বিনোদন-পর্যটন কেন্দ্রগুলো

0
131

নিজস্ব প্রতিবেদক :: করোনা মহামারির কারণে গত বছরের দুই ঈদের মতো এই রোজার ঈদেও বন্ধ থাকছে সিলেটের বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে সিলেটের পর্যটন খাত। ২০২০ ও ২১ সাল মিলে করোনাভাইরাসের কারণে সিলেটের পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্দিনে পড়েছেন।

এর মধ্যে সিলেটের পর্যটনশিল্পে জড়িত প্রায় ১০ হাজার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় পুরোদমে বেকার হয়ে পড়েছেন। চাকরিচ্যুত হয়েছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এছাড়াও করোনা পরিস্থিতির দীর্ঘ এই সময়ে সিলেটের পর্যটনশিল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

এই অবস্থায় এবারের ঈদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে হলেও সিলেটের বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্ট সকল শ্রেণির মানুষ।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা জানান, দুই ঈদই পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আয়ের মূল সময়। গত বছর তা হয়নি। দুই বছর বৈশাখেও ছিল বন্ধ। ফলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন।

তিনি বলেন- অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট, গণপরিবহন সরকারি সিদ্ধান্তে খোলা থাকলেও সিলেটে এই খাতটির সব ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। ঈদে বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া না হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সরকারের কাছে আবেদন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদে যেন বিনোদন কেন্দ্রগুলো খোলার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে, পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঈদে খুলে দেওয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনের কাছে সম্প্রতি লিখিত আবেদনও করেছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব)। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।

সিলেটের পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর থেকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেটের পর্যটনশিল্প। এ কারণে শুধু ট্যুর অপারেটররা নয়, বরং এ শিল্প-সংশ্নিষ্ট সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২০ সালে পর্যটনশিল্পে সিলেটে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, বিধি-নিষেধ না থাকলে প্রতি মাসে সিলেটে প্রতি মাসে পর্যটন খাতে গড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় হয়। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সরকার আবার সিলেটসহ সারা দেশের পর্যটনকেন্দ্র ও স্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এই কঠিন সময়ে পর্যটন খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে ডমেস্টিক ট্যুরিজমের কোনো বিকল্প নেই।

এখন যেহেতু স্বাস্থ্যববিধি মেনে সব কিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে, সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোও ঈদে খুলে দেওয়ার দাবি করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এতে অপার সম্ভাবনাময় এই শিল্প প্রায় ধ্বংসের পথ থেকে রক্ষা পাবে।

তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে- সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৬ মে চলমান বিধিনিষেধের পর পর্যটন কেন্দ্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে খোলার কোনো সুযোগ নেই।

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন