খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বুলেটিন প্রচারের তাগিদ

0
34

অনলাইন ডেস্ক:: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি জানিয়ে প্রতিদিন বিশেষ বুলেটিন প্রচারের তাগিদ দিয়েছেন তার একসময়ের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ তাগিদ জানিয়েছেন সোহেল।

সোহেল লিখেছেন,‘কারও স্বাস্থ্য নিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের উদ্বেগ থাকে। তেমন কেউ অসুস্থ কিংবা চিকিৎসাধীন হলে অনেক মানুষ উদ্বেগাকুল হয়ে উঠবে, হালনাগাদ অবস্থা ও ঝুঁকি কতটুকু তা জানতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। তাই এমন অবস্থায় নিয়মিত রুটিন করে রোজ অন্তত দুইবার স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রচার করা, প্রয়োজনে বিশেষ বুলেটিন প্রচার করা দরকার। খুব দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য কাউকে এ দায়িত্ব দিতে হয়। এটাই দস্তুর এবং সাধারণ বিবেচনা ও বিচারবুদ্ধিও তাই বলে। এই স্পর্শকাতর দায়িত্ব ঠিকমতো প্রতিপালিত না হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, সন্দেহ, অবিশ্বাস বাড়ে, এমনকি ক্ষোভ-বিক্ষোভেরও সৃষ্টি হতে পারে। উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে এই অজুহাতে মানুষকে অন্ধকারে রাখা উচিত নয়। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।’

‘বাংলাদেশে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার গুরুত্ব এবং তার ব্যাপারে নেতাকর্মী, ভক্ত-অনুরক্ত ও সাধারণ মানুষের আবেগ, উদ্বেগ ও ভালোবাসা নিয়ে বয়ান করার কিছু নেই। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার ঝুঁকিপূর্ণ বয়স ও দৈহিক অবস্থায় তিনি করোনায় আক্রান্ত হলে গোড়া থেকেই তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপারে খুবই দায়িত্বহীন আচরণ নাগরিকেরা লক্ষ্য করেছেন। সব ব্যাপারেই কেমন যেন একটা রাখঢাক, অসংলগ্নতা, সমন্নয়হীনতা, শৈথিল্য ও দায়সারা মনোভাবের আভাস পাওয়া গিয়েছে।

‘ম্যাডাম জিয়া বিতর্কিত মামলার রায়ে বন্দি। তাকে জামিন দেয়ার সাধ্য আদালত প্রদর্শন করতে পারেনি। নির্বাহী বা প্রশাসনিক আদেশে তাকে কারাগারের বাইরে নিজ বাসস্থানে শর্তাধীন বাসের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এটা এক ধরনের প্রশাসনিক জামিন বা প্যারোল। অর্থাৎ তিনি পুরোই সরকারের জিম্মায় রয়েছেন। জেলে থাকতেও তার উপযুক্ত চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়নি। পরীক্ষা হলেও তার ফল গোপন রাখা হয়েছে। বাসভবনে ফেরার পরেও করোনা পরিস্থিতির কারণে উনার স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু হতে পারেনি। এরমধ্যে তিনি কোভিড আক্রান্ত হন।’

‘বিষয়টি সাধারণভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু নাগরিকরা “তিনি ভালো ও স্থিতিশীল আছেন, আশঙ্কার কিছু নেই” এই আশ্বাস শুনতে শুনতেই ম্যাডামকে হাসপাতালে ভর্তি এবং শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে সিসিইউতে স্থানান্তরিত করতে দেখলেন। এখন শুনতে হচ্ছে, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা ও তোড়জোরের কথা। দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।’

‘এক্ষেত্রে সরকারও দায় এড়াতে পারে না। তাদের উচিত ছিল নিয়মিত স্বাস্থ্য-বুলেটিন প্রচার করে সকলকে আপডেটেড রাখা। সরকারি বুলেটিনের বিশ্বাসযোগ্যতার একটা সংকট আছে, এটা ঠিক। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে এটা করানো যেত। অপর দিকে ম্যাডামের চিকিৎসক টিম, পরিবারের দায়িত্বশীল কেউ, পার্টি কিংবা বিএনপি চেয়ারপারসন অফিসও পারতো এ দায়িত্ব পালন করতে।’

‘এখন চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা নিয়েও কেমন যেন একটা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো ভালো নয়। বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর। অগণিত মানুষের উদ্বেগ ও আবেগ এর সঙ্গে জড়িত। বিদেশযাত্রা জরুরি হলে তা বিলম্বিত হচ্ছে কেন? সরকারের গড়িমসির কারণে? নাকি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে? এইসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার দায়িত্ব কারা পালন করছে? এগুলো মানুষ জানতে চায়।’

সবশেষে তিনি তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ম্যাডামের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিশদ বিবরণসহ এগুলো খোলাসা করে জানান, প্লিজ। মানুষকে উৎকণ্ঠায় রাখবেন না। ম্যাডামের রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে প্রাণমন ঢেলে প্রার্থনা করি, ইয়া মা’বুদ তুমি তাকে সুস্থ করে দাও। আমাদের নিরাশ কোরো না।’

 

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন