বজ্রপাতে ৫জেলায় একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু

0
29

অনলাইন ডেস্ক:: বজ্রপাতে নেত্রকোণায় আটজনসহ পাচঁ জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয় অন্তত ছয়জন। মৃতদের মধ্যে শিশু, নারী ও স্কুলছাত্র রয়েছে।

নেত্রকোণায় আটজনের মধ্যে খালিয়াজুরীতেই মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। দুইজন করে মারা গেছেন কেন্দুয়া ও মদনে। আর একজনের মৃত্যু হয়েছে পূর্বধলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহ নেওয়াজ বলেন, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় জমিতে কাজ করছিলেন বৈরাটি গ্রামের বায়েজিদ ও কুণ্ডলী গ্রামের ফজলু মিয়া। বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তাদের।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় পুটিয়ার খালে জগন্নাথপুর গ্রামের ওয়াছেক মিয়া, বিপুল মিয়া ও বাতুয়াইল গ্রামের মনির হোসেন মাছ ধরছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।

মদন থানার ওসি জানান, মাঠে খেলার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ফতেপুর গ্রামের আতাবুর ও শরিফের।

এ ছাড়া ঘরের বাইরে অবস্থানকালে বজ্রাঘাতে আহত হন রবিন, সুরমা আক্তার ও রোমান। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পূর্বধলা থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, ধলামূলগাও ইউনিয়নের পাকই গ্রামের জুনায়েদ বাড়ির সামনে খেলছিল। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘বজ্রপাতে নিহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আহতরা পাচ্ছেন ২ হাজার টাকা করে।’

ফরিদপুরে বজ্রপাতে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, পৌরসভার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী, মোল্লা ডাঙ্গী মহল্লায় ও মধুখালী উপজেলার চাঁদপুরে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পৌরসভার মোল্লাডাঙ্গী মহল্লায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে আনোয়ারা বেগমের। ধান নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে প্রাণ হারান তিনি।

ধান নিয়ে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে কৃষক কবির মোল্লারও। তিনি পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গঙ্গাবর্দী মহল্লার গোপাল মোল্লার ছেলে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে কৃষক দুলাল খানের। ঝড়-বৃষ্টির সময় তিনি মাঠে কাজ করছিলেন।

এ ছাড়া মধুখালী উপজেলার চাঁদপুরে কবির শেখ নামে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা গেছেন।

মানিকগঞ্জ সদর ও ঘিওরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। মৃতরা হলেন ঘিওর উপজেলার বরটিয়া রাহাতহাতি গ্রামের আহাম্মদ আলী ও সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকার আসিফ হোসেন।

মানিকগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিকেলে পৌরসভার পৌর এলাকার জমি থেকে ধান কেটে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় দিনমজুর আহাম্মদ আলীর।

সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় স্কুলছাত্র আসিফ হোসেনের। এ সময় আহত হয় তার তিন বন্ধু। আহত আব্দুল্লা ও অনিককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিহাবকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নেয়া হয়েছে।

চান্দেরচর ইউপির চেয়ারম্যান আবুল বাশার জানান, গরু আনার জন্য বাড়ির পাশের জমিতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় আরও একজনের তার নাম জানা যায়নি।

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে আতিকুল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরও একজন।

তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, মাঠে ফুটবল খেলার সময় হঠাৎ করেই বজ্রপাতে আতিকুলের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

তিনি জানান, আকাশে মেঘ দেখে মোমেন গরু আনার জন্য বাড়ির পাশের জমিতে যান। সেখানে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তার। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বজ্রপাতে আবু তাহের নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া যুবক দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের তেগাঙ্গা গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে।

দোয়ারা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নাজির আলম বলেন, তাহের কেনাকাটা করার জন্য দোয়ারাবাজার সদরে আসেন। হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে আশ্রয় নিতে যান। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন