রাত পোহালেই ভোট, জকিগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ৩ শতাধিক সদস্য সক্রিয়

0
59

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি(সিলেট):: রাত পোহালেই ভোট উৎসব জকিগঞ্জে। সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জের এ পৌরসভার ৫ম নির্বাচন এটি। সুষ্ঠ, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ৩ শতাধিক সদস্য নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে রাখবেন পুরো শহরকে। ভোটকে নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছে গেছে ব্যালট বাক্সসহ ভোট গ্রহণের সরঞ্জামাদি। তবে ব্যালট পেপার যাবে শনিবার সকালে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মো.আব্দুন নাসের ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সাদমান সাকিব জানান, ৯টি কেন্দ্রে ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবেন। ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সকল কেন্দ্রে নজরদারী রাখবেন। র‌্যাবের ২টি, বিজিবির ২টি টহল দল সক্রিয় থাকবে মাঠে। ৩ শতাধিক সদস্য সক্রিয় থাকবে জকিগঞ্জে।
১৯৯৯ সালে গঠিত জকিগঞ্জ পৌরসভায় এবারের নির্বাচনে ১২ হাজার ৩৩৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৮, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদের নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.খলিল উদ্দিন, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেলগাছ প্রতিকে উপজেলা যুবলীগের বহিস্কৃত আহবায়ক আব্দুল আহাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক(বহিস্কৃত) ফারুক আহমদ (জগ), বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, বিএনপি বিদ্রোহী (বহিস্কৃত)প্রার্থী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা চামচ প্রতিকে, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ সমর্থিত সতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ হিফজুর রহমান লড়ছেন মোবাইল প্রতিকে, লাঙ্গল প্রতিকে জাতীয় পার্টির পৌরসভাপতি আব্দুল মালেক ফারুক, সোনার বাংলা সমিতির সভাপতি জাফরুল ইসলাম হ্যাঙ্গার প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিপাকে রয়েছেন আওমীলীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীই। বিদ্রোহী প্রার্থীর জন্যই দলীয় প্রার্থীরা সুবিধা করতে পারছেন না বলে ধারনা সাধারণ ভোটারদের। এ নির্বাচনে মূল আলোচনায় রয়েছেন, আল আল ইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল মার্কার প্রতিনিধি কাজী হিফজুর রহমান, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নারিকেল গাছের প্রতিনিধি আব্দুল আহাদ, আওয়ামীলীগের অপর বিদ্রোহী জগ মার্কার প্রতিনিধি ফারুক আহমদ। মাঠ পর্যায়ে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, নৌকা এবং ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে যেসব নেতাকর্মী মাঠে রয়েছেন তাদের বেশীরভাগই শুধুমাত্র পদপদবীরা লোক দেখানোর জন্যই কাজ করছেন। ভিতরে ভিতরে তারা অন্য স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তবে শেষ পর্যায়ে এসে নৌকা ও ধানের শীষের ভোট কিছুটা বেড়েছে বলে জানা গেছে। চমক দেখাতে চান লাঙ্গলের আব্দুল মালেক ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফরুল ইসলামও।
এবারের নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে, ৩৩ জন কাউন্সিলর ও ৯জন মহিলা কাউন্সিলর লড়াই করছেন। দু’একজন ছাড়া বর্তমান কাউন্সিলরদের প্রায় সবাই রয়েছেন ঝুকির মধ্যে। এসব ওয়ার্ডে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে।
রিটানিং অফিসার ও সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসার ফয়সল আমিন জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ট ও নিরপেক্ষ ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশ বজায় রয়েছে। নির্বাচনের দিনও এমন সম্প্রীতি বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে প্রচার প্রচারনা। শেষ দিনে নৌকার পক্ষে গণ সংযোগ ও পথ সভা করেছেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক বুরহান উদ্দিনসহ জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ। বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা আবদুর রাজ্জাকসহ জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন।

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন