রোজিনাকে হেনস্তাকারীদের নামে যৌন হয়রানির মামলার কথা ভাবছে ৫টি সংগঠন

0
110

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার কথা ভাবছে পাঁচটি মানবাধিকার সংগঠন।

বুধবার (১৯ মে) বিকেলে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যৌথভাবে এর আয়োজন করে- মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, ব্লাস্ট এবং নারীপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর রিনা রায়। এছাড়া মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহিন আনাম, আসকের নীনা গোস্বামি, নারীপক্ষের তামান্না খান, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী, ব্লাস্টের ব্যারিস্টার শারমিন আক্তার এবং সারা হোসেন বক্তব্য দেন।

রিনা রায় বলেন, ‘নারী ও পুরুষ মিলে রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তা যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে এবং তা স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ। হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও কারাগারে পাঠানোর ব্যাপারে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘রোজিনা ইসলাম কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথি চুরি করেছেন, তা জনগণকে জানতে দিচ্ছেন না কেন? কেন কোনো সাংবাদিককে থানায় এবং আদালতে প্রবেশ করতে দেয়নি? সাধারণ সময় ক্যামেরা ছাড়া সাংবাদিক আদালতে প্রবেশ করতে পারে কিন্তু রোজিনার ক্ষেত্রে তাও যেতে দেয়া হয়নি। এই গোপনীয়তার কারণ কী? নানা ধরনের অসুস্থতায় আক্রান্ত রোজিনাকে কেন কারাগারে নেয়া হলো? আমরা জানি কারাগারে স্থান সঙ্কুলানের ক্ষেত্রে কয়েদীর ভয়াবহ চাপ আছে। সেখানে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়। সাংবাদিকতার নীতি ও মান বজায় রেখেই সাংবাদিকতা করেন সাহসী সাংবাদিক রোজিনা।’

তিনি বলেন, ‘দুপুর থেকে স্বাস্থ্য সচিবের সহকারীর রুমে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখে, হেনস্তা করে, পুলিশ ডেকে হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে শাহবাগ থানায় পাঠানো হলো কেন? হেনস্থার পর অসুস্থ হলেও তাকে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়নি। প্রশাসনের কেন্দ্র বিন্দু সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কি আটকে রেখে হেনস্তা করতে পারেন? কোনো ন্যায্য কারণ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে পাঁচ ঘণ্টা কেন, ৫ সেকেন্ড আটকে রাখার অধিকার কারও নেই। নারী-পুরুষ মিলে রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তা যৌন হয়রানি পলিসির আওতায় পড়ে এবং তা স্পষ্টতাই ফৌজদারী অপরাধ। যে নথি ফাঁস হলে দেশের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হতে পারে সেটা কীভাবে একজন প্রাইভেট সেক্রেটারির টেবিলে বিনা পাহাড়ায় পড়ে থাকে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেলেই অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। কেন এই মামলা করা হয়েছে।

‘আমরা শঙ্কিত স্বাস্থ্যখাতে নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে যেসব রিপোর্ট করেছিলেন তার কারণে যারা বিক্ষুব্ধদের আক্রোশের শিকার হয়েছেন রোজিনা ইসলাম।’

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার ঘটনা দেশের সংবিধান পরিপন্থী । একজন সাংবাদিককে ‍ বিশেষ করে একজন নারী সাংবাদিককে আটক রাখার ঘটনা নিন্দনীয় রোজিনা অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না করে থানা হাজাতে পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনাটি অমানবিক।

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের কবে নাগাদ যৌন হয়রানির মামলা করা হবে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে সালমা আলী বলেন, উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা যায। এর আগে কিছু গবেষণা আছে, সবাই মিলে বসে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন