সালমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কোটি টাকার দুর্নীতি পাঁচ লক্ষ টাকায় রফাদফা

0
110

মোঃছামিউল ইসলাম :: জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত সরিষাবাড়ী সালমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন এর বিরুদ্ধে ভুয়া ভাউচার ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ আত্নসাতের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ আনয়ন করেছেন অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন এর স্থলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান সামাদ কে ১১ এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে ১০ এপ্রিল বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান একটি পত্র জারী করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি সূত্রে জানা যায় -সরিষাবাড়ী সালেমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত চার সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি তদন্ত কার্য সম্পাদন করেন ।গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন এর বিরুদ্ধে বিগত ২০১৫-২০১৬,২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বৎসরে ৫৮ লাখ ১৪ হাজার ১২ টাকা ০১ পয়সা অনিয়ম,ভুয়া ভাউচার,শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থ আত্নসাতের প্রমাণ পান তদন্ত কমিটি। প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন এর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট অনুযায়ী গত তিন অর্থ বৎসরে তিনি ৫৮ লাখ ১৪হাজার ১২টাকা ০১ পয়সা আত্নসাতের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ১০দিনের সময় সীমা বেধে দিয়ে পর্যালোচনাসহ প্রাথমিক ভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের নোটিস জারী করেন। জারীকৃত নোটিশের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন পর্যালোচনাসহ সহ ব্যাখ্যার জবাব না দিয়ে লিখিত ভাবে আরও ১০দিন সময়ের জন্য আবেদন করলে সভাপতি তাকে আরোও ১০দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদনটি মন্জুর করেন। পরবর্তীতে গত ৯ এপ্রিল ম্যানেজিং কমিটির সভায় প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন এর দাখিলকৃত নোটিশের জবাব সন্তোষ জনক ও বিধি সম্মত না হওয়ায় সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে ১০ এপ্রিল থেকে প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীনকে অডিট রিপোর্ট পুনরায় যথাযথ ভাবে পর্যালোচনাসহ ব্যাখ্যা ( ২য়বার) মূলক প্রতিবেদন তৈরীর সুবিধার্থে তাকে ৩০ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত ছুটি প্রদান করে পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বাক্ষরিত ১০ এপ্রিল তারিখে একটি পত্রও জারী করেন। প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত ৩০ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সভাপতির নিকট পর্যালোচনাসহ ব্যাখ্যা (২য় ) প্রতিবেদন দাখিল করেন।প্রতিবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তা অধিকতর নিরীক্ষা করবার জন্য ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন।উক্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়। নিরীক্ষা কমিটি যাচাই বাছাই করে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ১৩ মে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং এ উক্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন সভাপতি উপস্হাপন পূর্বক মানবিক ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে প্রধান শিক্ষককে আত্নসাতকৃত৫৮ লক্ষ ১৪ হাজার ১২ টাকা ০১ পয়সা থেকে মাত্র এক কালীন ২ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও প্রতি মাসে বিদ্যালয়ের ফান্ডে ১০ হাজার টাকা করে ২৫ মাসে পরিশোধ করার শর্তে প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীনকে স্বপদে বহাল রেখে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।যার প্রেক্ষিতে ওয়াজেদা পারভীন ৩০ মে জনতা ব্যাংক, সরিষাবাড়ী শাখায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের ১০২১০০১৫৮৬ নং হিসাবে জমা দেন। যদিও মিটিং টি ১৩ মে হয়েছে কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে ৩০ মে।আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়ের যৌথ অ্যাকাউন্ট ৫৯২৬০২০০০০১৩৫ নং হিসাব ব্যবহার না করে ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষকের নিজ নামীয় ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ের ব্যাংক রশিদ ব্যবহার করার মাধ্যমে (সঞ্চয়ী হিসাব নং ৫৯২৬০১০০০০৩১৯ রুপালী ব্যাংক লিঃ আরামনগর শাখায়) ১৪ মার্চ২০২১ পর্যন্ত ৩৪ লক্ষ ছেষট্রি হাজার একশত একাশি টাকা উক্ত অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রমাণ পাওয়া যায় ।প্রসঙ্গত,উক্ত দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে গত ৩ মে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় উপস্হিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন পাঠান,পৌর মেয়র মনির উদ্দিন মনির,সরিষাবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ সরোয়ার জাহান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক,সরিষাবাড়ী আর,ডি,এম মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক,অডিট কমিটির সদস্য ও অভিভাবক সদস্য আনিছুর রহমান ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ও পৌর কাউন্সিলর ও স্হানীয় মন্ত্রী মহোদয়ের আস্হাভাজন ব্যক্তি সাখাওয়াতুল আলম মুকুল ও তাদের সমন্বয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতি মহোদয়কে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে জানা যায়। প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন ২০১৫ সালের ১ লা জুন সরিষাবাড়ী সালেমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ।

তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্নসাত ,অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়াও এন টি আর সি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) নিভা রাণী পাল এর নিকট থেকে এমপিও করা বাবদ ১লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা নেন।নিভা রাণী পাল এর নিকট টাকা না থাকার কারণে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ধার নিয়ে প্রধান শিক্ষককে দেন যা নিভা রাণী পাল প্রতি মাসে বেতন থেকে পরিশোধ করছেন। যা গত ২৫ এপ্রিল নিভা রাণী পাল সভাপতির নিকট লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও জানা যায়,প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীন, সরিষাবাড়ী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদা পারভীনের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি সময় টিভি বাংলাকে বলেন,আপনি সভাপতির সাথে কথা বলুন। আমার মা অসুস্থ হাসপাতালে আছি আমার জন্য দোয়া করবেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি বলেন আমাকে সব সাংবাদিক ফোন দিতেছে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিভাবে বাইরে গেল বুঝতেছিনা।কিছু অনিয়ম হয়েছে।মোবাইলে সব বলা যায় না।আমি আগামি কাল এগারটায় জামালপুর এসে আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা বলব।

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন