হাবিবের পক্ষে ‘সুপারিশ করে’ তোপের মুখে লুৎফুর

0
102

নিজস্ব প্রতিবেদক:: মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিলেট-৩ আসনে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এখনো ভোটের দিন তারিখ ঠিক না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেমে গেছেন মাঠে। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের প্রায় দুই ডজন নেতা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন তারা।

যখন দুৃই ডজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী, তখন একজনের পক্ষে নিজের সমর্থন প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান। মনোনয়ন প্রত্যাশী হাবিবুর রহমানের হাবিবের পক্ষে কেবল সমর্থনই ব্যক্তি করেননি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধও জানিয়েছেন তাকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের জন্য।

জেলা সভাপতির পদে থাকা দলের এই প্রবীণ নেতার এমন অবস্থানে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিশেষত অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এতে তোপের মুখে পড়েছেন লুৎফুর।

ক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি, জেলা সভাপতির দায়িত্বে থেকে একজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না লুৎফুর রহমান। তবে এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি লুৎফুর রহমান।

বুধবার রাতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন অসুস্থ। কোনো কথা বলতে পারব না।

জানা যায়, আরও অনেক নেতার মতো সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোয়নের জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। এলাকায়ও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। গত ২২ মে শনিবার নির্বাচনী এলাকার দক্ষিণ সুরমায় হাবিবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. লুৎফুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাবিবুর রহমান হাবিবকে এ আসনে মনোনয়ন দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ করেন লুৎফুর রহমান। তার এই বক্তব্যে প্রকাশে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, জেলা আওয়ামী লীগের এমন দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোনোভাবেই এককভাবে কোন মনোনয়ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা চিন্তা না করে কোনো সভায় এধরনের বক্তব্য দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে মন্তব্য করেন অনেক নেতা।

বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, আমরা মনে করতাম তিনি রাজনীতি করতে করতে পরিণত বয়সে এসেছেন। আমাদের ধারণা ছিল তিনি রাজনীতিতে সাংঘাতিক ভাবে পরিপক্ব। কিন্তু এখন দেখছি উল্টো।

দুলাল বলেন, একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে তার এই বক্তব্য আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। হয় তার বার্ধক্যজনিত কারণে সমস্যা হচ্ছে, না হয় তিনি কোনো রাজনৈতিক কাজ শিখেননি। কারণ এ ধরনের স্টেটমেন্ট কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান দিতে পারেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নমিনেশন বোর্ড বা আমাদের নেত্রী ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কারো নেই।

তিনি আরও বলেন, উনার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। সেই ব্যক্তিগত পছন্দ তিনি ড্রইংরুম পর্যন্ত রাখবেন। কোনো জনসভায় তিনি তার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে পারেন না।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন বলেন, দলীয় সভাপতি আমাদের সবার মুরুব্বি। আমার বিশ্বাস হতে কষ্ট হচ্ছে এই সহজ সরল বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে এ ধরনের বক্তব্য আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আমার অনুরোধ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র মোতাবেক যেই নৌকার প্রতীক মনোনয়ন পাবেন আমরা তার সাথেই আছি।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান। আগামী জুন মাসের মধ্যে শূন্য হওয়া এই আসনে উপনির্বাচন হওয়ায় কথা থাকলেও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। তবে সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জুলাইয়ের মধ্যে এ আসনে নির্বাচন হবে। ২ জুন নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, সাংসদ কয়েসের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রকিব মন্টু।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ মুজিবুর রহমান জকনও।

এ ছাড়া বেশ কয়েকজন প্রবাসীও আছেন এই তালিকায়। এদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আ স ম মিসবাহ, ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনাম উল ইসলাম ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মনির হোসাইন।

উত্তর দিন

দয়া করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন